বাংলাদেশের কুটির শিল্প; সমস্যা ও সম্ভাবনা

কুটির শিল্প সম্পর্কে জানেতে হলে প্রথমেই জানতে হবে কুটির শিল্প কি?: একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য দরকার শিল্পের ব্যাপক সম্প্রসারণ। শিল্পের উন্নয়ন দেশকে সমৃদ্ধ করে।

কুটির শিল্প সম্পর্কে জানেতে হলে প্রথমেই জানতে হবে কুটির শিল্প কি?: একটি দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য দরকার শিল্পের ব্যাপক সম্প্রসারণ। শিল্পের উন্নয়ন দেশকে সমৃদ্ধ করে। (বাংলা পেডিয়ার তথ্যমতে) কুটির শিল্পে বাংলার আবহমান সংস্কৃতির প্রতিভাস ফুটে ওঠে, যার নির্মাতা পল্লী অঞ্চলের মানুষ। নিজেদের জীবিকা এবং নিজসত ব্যবহারের জন্য তারা এ সকল পণ্য উৎপাদন করে। বাংলার প্রকৃতি, মানুষ, পশুপাখি, লতাপাতা, গাছপালা, নদ-নদী ও আকাশ কুটির শিল্পের ডিজাইনে বা মোটিভে দেখা যায়। কুটির শিল্পকে অনেকে হস্তশিল্প, কারুশিল্প, সৌখিন শিল্পকর্ম, গ্রামীণ শিল্পও বলেন। বাংলাদেশের অন্যান্য শিল্পের মধ্যে অন্যতম কুটির শিল্প। এ শিল্পের জন্য খুব বেশি অর্থ বিনিয়োগের প্রয়োজন হয়না। প্রাচীনকাল থেকেই বাঙালি ঐতিহ্যের সাথে কুটির শিল্প ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। যেমন- হাতে তৈরি মসলিন শাড়ি, দা, ছুরি, তরবারি, চিরুনি ইত্যাদি কুটির শিল্পের অন্তর্ভুক্ত। কামার, কুমার, কাছাড়ি, স্বর্ণকার, তাতাড়ি ও শাঁখারিরা হলেন কুটির শিল্পের শিল্পী।

কুটির শিল্পের সমস্যা ও সম্ভাবনা: জাপানের অর্থনীতির প্রধান উৎস কুটির শিল্প ও ক্ষুদ্রযন্ত্র শিল্প। জাপানের শতকরা ৮৫ জন শ্রমিক ক্ষুদ্র শিল্পের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। ইউরোপের শিল্প বিপ্লব হয় কুটির শিল্পের মাধ্যমে। ভারতবর্ষে যখন মুসলমান শাসন শেষে ইংরেজ বণিকরা জাহাজ ভর্তি সস্তা কাপড় ও লোহার দ্রব্যসামগ্রী এদেশে আনলেন, তারপর থেকেই কুটির শিল্পের অবনতি শুরু। পূর্বপুরুষের ব্যবসা কুটির শিল্প ছেড়ে দিয়ে অনেকেই ক্ষেতমজুর আবার কেউ কারখানায় শ্রমিক হিসেবে যোগদান করেছেন। এরপর থেকে ধীরে ধীরে কুটির শিল্পের গুরুত্ব কমতে থাকে। বর্তমানে কুটির শিল্পের তেমন কদর নাই বললেই চলে। কুটির শিল্পের সম্প্রসারণের জন্য প্রয়োজন সরকারের বিনিয়োগ এবং উপযোগী পরিবেশ তৈরি। কুটির শিল্পে নিয়োজিত ব্যক্তিদের সহজ শর্তে ঋণ প্রদান ও প্রতিটি মহল্লায় কুটির শিল্প সমবায় তৈরি করে অভিজ্ঞ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সবাইকে অনুপ্রাণিত করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *